বর্ধমানে জইশ-ই-মহম্মদ সন্দেহভাজন গ্রেফতার, শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেটের ছক নিয়ে STF তদন্ত শুরু
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) বর্ধমান থেকে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লিখেছেন
Priya Jana
বর্ধমানে JeM সন্দেহভাজন গ্রেফতার, শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেটের ছক নিয়ে STF-এর তদন্ত
পশ্চিমবঙ্গে ফের জঙ্গি যোগের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) পূর্ব বর্ধমান এলাকা থেকে জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
STF সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির গতিবিধি বেশ কিছুদিন ধরে নজরে রাখা হচ্ছিল। তদন্তকারীরা তার যোগাযোগ, ডিজিটাল তথ্য এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখছেন। প্রাথমিক তদন্তে কিছু সন্দেহজনক তথ্য সামনে আসার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই ঘটনার সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করার কোনও পরিকল্পনা যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা। যদিও তদন্তের স্বার্থে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি STF।
জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ
তদন্তকারীদের সন্দেহ, ধৃত ব্যক্তি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য বা সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তার মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
জইশ-ই-মহম্মদ দক্ষিণ এশিয়ার একটি কট্টরপন্থী জঙ্গি সংগঠন, যার বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই এই সংগঠনের নেটওয়ার্কের উপর নজরদারি চালাচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তে যদি কোনও নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
STF বর্তমানে ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে। তার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল এবং কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের দিকে নজর গোয়েন্দা মহলের
বর্ধমান থেকে এই গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও বিষয়টির উপর নজর রাখছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
বর্তমানে STF-এর তদন্তের মূল লক্ষ্য হল—ধৃত ব্যক্তির নেটওয়ার্ক, সম্ভাব্য সহযোগী এবং কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিশানা করার পরিকল্পনা সত্যিই ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা।
