জয়িতা ডাগআউটে যেতেই ভেঙে পড়লেন নিরঞ্জন! ঝিলমকে জড়িয়ে কান্না, কীসের ভয় ‘লাফটারসেন’-এর?
‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে শুরুতেই আবেগঘন মুহূর্ত। ডাগআউট রুমে জয়িতা চ্যাটার্জি চলে যেতেই মন খারাপ হয়ে যায় নিরঞ্জন মণ্ডলের। পরে ঝিলম গুপ্তকে সামনে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ‘লাফটারসেন’। খেলায় টিকে থাকতে গিয়ে কাছের মানুষকে মনোনীত করতে হতে পারে—এই আশঙ্কাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
লিখেছেন
Priya Jana

কলকাতা: এতদিন নেটদুনিয়ায় যাঁকে মূলত হাসি-ঠাট্টার মেজাজেই দেখেছেন দর্শক, সেই ‘লাফটারসেন’ ওরফে নিরঞ্জন মণ্ডলকে এবার দেখা গেল একেবারে অন্য রূপে। ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে খেলতে এসে কখনও তর্কে জড়াচ্ছেন, আবার কখনও কাছের মানুষকে হারানোর আশঙ্কায় চোখের জল ফেলছেন তিনি। জয়িতা চ্যাটার্জি ডাগআউট রুমে চলে যেতেই আচমকা ভেঙে পড়লেন নিরঞ্জন। পরে ঝিলম গুপ্ত তাঁকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তরমুজ কাটাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল ঝামেলা
ঘটনার শুরু রান্নাঘর থেকে। তরমুজ কাটার পদ্ধতি নিয়ে জয়িতার সঙ্গে নিরঞ্জনের বচসা শুরু হয়। নিরঞ্জন হাইজিন মেনে ফল কাটার কথা বলেছিলেন। সেই মন্তব্য থেকেই দু’জনের মধ্যে তর্ক বাড়ে।
পরিস্থিতি গড়ায় ব্যক্তিগত কটাক্ষ পর্যন্ত। পরে জয়িতা মনামী ঘোষের কাছে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মনামী অবশ্য স্পষ্ট করে দেন, মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা ঠিক নয়।
এরপর পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন নিরঞ্জন নিজেই। জয়িতার কাছে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান তিনি। জানান, তাঁর কথায় জয়িতা কষ্ট পেয়ে থাকলে সেটা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। জয়িতাও নিজের ভুল স্বীকার করেন। ফলে সাময়িকভাবে মিটে যায় সেই ঝামেলা।
এরপরই এল ডাগআউটের কঠিন পরীক্ষা
কিন্তু আসল আবেগঘন মুহূর্ত আসে ডাগআউট রুমের খেলায়। ‘বিগ বস বাংলা’-র নিয়ম অনুযায়ী, ছ’জন প্রতিযোগীকে ডাগআউটে পাঠানো হয়। সেখান থেকেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে—কে মূল ঘরে ফিরবেন আর কার যাত্রা থেমে যাবে।
ক্যাপ্টেন ভরত কলের সিদ্ধান্তে প্রথমে দীপেন্দু বিশ্বাস, দুর্নিবার সাহা, ঝিলম গুপ্ত এবং তনুশ্রী রায় দাস ডাগআউটে যান। পরে গোপন ভোটে সেখানে পাঠানো হয় সোহিনী পাল এবং জয়িতা চ্যাটার্জিকে।
জয়িতার ডাগআউটে যাওয়ার সিদ্ধান্তটাই যেন সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় নিরঞ্জনকে।
জয়িতা যেতেই মন খারাপ ‘লাফটারসেন’-এর
জয়িতা ডাগআউটে চলে যাওয়ার পর একান্তে বিগ বসের কাছে নিজের মনের কথা বলছিলেন নিরঞ্জন। তাঁর বক্তব্য, যাঁর সঙ্গে এতদিন হাসি-ঠাট্টা করেছেন, সেই মানুষকেই যে একসময় প্রতিযোগিতার কারণে বিপদের মুখে পড়তে হবে, তা তিনি ভাবেননি।
আর সেই আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি।
ঠিক তখনই সেখানে আসেন ঝিলম গুপ্ত। ঝিলমকে দেখেই নিরঞ্জনের চোখে জল চলে আসে। ঝিলমকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। ঝিলমও তাঁকে আগলে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
কীসের ভয় নিরঞ্জনের?
কাঁদতে কাঁদতেই নিজের সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা জানান নিরঞ্জন। তাঁর ভয়, এই খেলায় টিকে থাকতে গেলে একটা সময় এমন পরিস্থিতি আসবেই, যখন নিজের কাছের মানুষকেও মনোনীত করতে হবে।
যাঁদের সঙ্গে ঘরের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা, বন্ধুত্ব কিংবা আবেগের সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তাঁদেরই হয়তো একদিন ভোট দিয়ে ডাগআউটে পাঠাতে হবে—এই ভাবনাটাই তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলছে।
নিরঞ্জনের কথায়, তিনি কখনও ভাবেননি যে যাঁদের সঙ্গে জয়িতা এত স্বাভাবিকভাবে মিশছেন, তাঁরাই একসময় তাঁর নাম মনোনীত করতে পারেন। সেই কারণেই জয়িতার ডাগআউটে যাওয়া তাঁকে আরও বেশি আবেগপ্রবণ করে তোলে।
ঝিলমের কী বক্তব্য?
নিরঞ্জনকে শান্ত করতে ঝিলম তাঁকে বোঝান, এটাই খেলার নিয়ম। বিগ বসের ঘরে প্রত্যেক প্রতিযোগীকেই কোনও না কোনও সময়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কাউকে মনোনীত করা মানেই যে ব্যক্তিগত শত্রুতা, তা নয়।
ঝিলমের কথায়, সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়। তাই খেলার নিয়মকে খেলার মতো করেই দেখতে হবে।
ঝিলমের এই আশ্বাসের পরেও অবশ্য নিরঞ্জনের আবেগ পুরোপুরি কাটেনি। বরং তাঁর এই দুর্বল মুহূর্তই দেখিয়ে দিল, প্রতিযোগিতাকে তিনি কতটা আবেগ দিয়ে দেখছেন।
শুরুতেই বদলে গেল নিরঞ্জনের পরিচিত ছবি
৩০ অগস্ট থেকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় শুরু হয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’। প্রতিদিন স্টার জলসায় সম্প্রচারিত হচ্ছে এই রিয়্যালিটি শো। ভরত কল, মনামী ঘোষ, সোনামণি সাহা, অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, দীপেন্দু বিশ্বাস, দুর্নিবার সাহা, ঝিলম গুপ্ত, নন্দিনী দত্ত-সহ একাধিক পরিচিত মুখ রয়েছেন প্রতিযোগীদের তালিকায়।
শো শুরুর পর থেকেই প্রতিযোগীদের মধ্যে মতবিরোধ, বন্ধুত্ব এবং কৌশলের লড়াই সামনে আসছে। তার মধ্যেই নিরঞ্জনের কান্নার মুহূর্তটি আলাদা করে নজর কেড়েছে।
কারণ, হাসির আড়ালে থাকা মানুষটির যে এতটা আবেগপ্রবণ দিক রয়েছে, তা হয়তো অনেক দর্শকই আগে দেখেননি।
খেলা যত এগোবে, কঠিন হবে সিদ্ধান্ত
বিগ বসের ঘরে সম্পর্ক তৈরি হওয়া যতটা সহজ, সেই সম্পর্কের বাইরে দাঁড়িয়ে খেলার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া ততটাই কঠিন। নিরঞ্জনের ভয়ও আসলে সেখানেই।
আজ যে মানুষটির সঙ্গে গল্প করছেন, কাল হয়তো তাঁর নামই ভোট দিতে হবে। আর এই জায়গাটিই ‘লাফটারসেন’-এর কাছে সবচেয়ে বড় মানসিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
জয়িতার ডাগআউটে যাওয়া তাই শুধু একটি গেমের সিদ্ধান্ত নয়, নিরঞ্জনের কাছে হয়ে উঠেছে বিগ বসের খেলায় সম্পর্ক বনাম প্রতিযোগিতার প্রথম বড় ধাক্কা।
Keep reading
More in বিনোদন
বিনোদন
শুধু কণ্ঠ দিয়েই Dracula-র ‘অন্ধকার দিক’ ফুটিয়ে তুলেছেন Jonathan Bailey, নতুন অডিও ড্রামা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা
ব্রাম স্টোকারের বিখ্যাত চরিত্র Dracula-কে এবার পর্দায় নয়, শুধু কণ্ঠের মাধ্যমে জীবন্ত করেছেন Jonathan Bailey। Audible-এর নতুন immersive audio…
বিনোদন
ট্রোল ও গুজব নিয়ে শেহনাজ গিলের মজার জবাব, বললেন—‘আমার জন্য যেন বেচারাদের ভিউ আসে’
ট্রোলিং এবং তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা গুজব নিয়ে এবার মজার ছলে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শেহনাজ গিল। তাঁর কথায়, কোনও নেতিবাচক খবরের মাধ্যমে যদি তা…
বিনোদন
‘লক আপ’ হোস্টিং ছিল স্বপ্নের কাজ, সন্তানদের সঙ্গেও বদলেছে সমীকরণ: ফারাহ খান
‘লক আপ’ সিজন ২-এ রীতেশ দেশমুখের সঙ্গে হোস্টিং করে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ফারাহ খান। তিনি জানিয়েছেন, রিয়্যালিটি শোয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহের…
বিনোদন
‘এখানে থাপ্পড় মারব, বাইরে হাততালি পড়বে’: ‘Gold Digger’ মন্তব্যে কেঁদে ফেললেন Priyanka Chahar Choudhary, Shehzad-কে পাল্টা জবাব
Rise & Fall Season 2-এ Priyanka Chahar Choudhary এবং Shehzad Poonawalla-র মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। Priyanka-কে ‘gold digger’ বলার পর…
বিনোদন
Bigg Boss Telugu 10: টাস্কে গালিগালাজ ঘিরে Aman ও Thrigun-এর হাতাহাতি, চমকে গেলেন দর্শক
Bigg Boss Telugu 10-এর সাম্প্রতিক পর্বে ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক চলাকালীন Aman Masud ও Thrigun-এর মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রু…
বিনোদন
Fahadh Faasil-এর ‘Don’t Trouble The Trouble’ দেখে মুগ্ধ Jr NTR, বললেন ‘Must-Watch’; ছোট্ট Ssara-র অভিনয়ে মুগ্ধ তারকা
মুক্তির আগেই Fahadh Faasil অভিনীত Don’t Trouble The Trouble দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ Jr NTR। ছবিটিকে ‘must-watch’ বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি ফাহা…
