সরকারি স্কুলে উপস্থিতি সিস্টেমে বিরাট বদল, পড়ুয়া অনুপস্থিত হলেই অভিভাবকের মোবাইলে যাবে SMS
সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের উপস্থিতি নজরদারিতে বড়সড় পরিবর্তন। নতুন ব্যবস্থায় কোনও পড়ুয়া স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তার অভিভাবকের মোবাইলে সরাসরি SMS পাঠানো হবে। পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থায় উপস্থিতির তথ্য নথিভুক্ত করা হবে। লক্ষ্য পড়ুয়াদের নিয়মিত স্কুলে আসা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়ানো।
লিখেছেন
Priya Jana
নয়াদিল্লি: সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের উপস্থিতি নিয়ে এবার আরও কড়া নজরদারি। স্কুলে পড়ুয়া অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি আর শুধু হাজিরার খাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সরাসরি অভিভাবকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে SMS। নতুন এই ব্যবস্থা চালু করে পড়ুয়াদের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও নজরদারির আওতায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে পাঞ্জাবের সরকারি স্কুলগুলিতে এই SMS অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় পড়ুয়া অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত হলেই সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে নতুন উপস্থিতি ব্যবস্থা?
নতুন ব্যবস্থায় স্কুলগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে পড়ুয়াদের উপস্থিতির তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। কোনও পড়ুয়াকে অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করা হলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিভাবকের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে SMS অ্যালার্ট যাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
এর ফলে সন্তান স্কুলে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের অন্ধকারে থাকতে হবে না। স্কুলে না গেলে দ্রুত বিষয়টি জানতে পারবেন তাঁরা এবং প্রয়োজন হলে স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুপস্থিতির কারণ জানাতে পারবেন।
পরপর দু’দিন অনুপস্থিত থাকলে কী হবে?
শুধু SMS পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। কোনও পড়ুয়া পরপর দু’দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে অনুপস্থিতির কারণ জানা এবং পড়ুয়ার স্কুলছুট হওয়ার সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা করা হবে।
শিক্ষা দফতরের লক্ষ্য, কোনও পড়ুয়া নিয়মিত স্কুলে না এলেও যাতে বিষয়টি দীর্ঘদিন নজরের বাইরে না থাকে।
শিক্ষকদের উপস্থিতিও নজরদারিতে
নতুন ব্যবস্থার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—শুধু পড়ুয়া নয়, শিক্ষকদের উপস্থিতিও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। কোনও শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে সেই তথ্যও অভিভাবকদের SMS-এর মাধ্যমে জানানো হবে বলে ব্যবস্থাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে স্কুলে পড়ুয়া ও শিক্ষক—দুই পক্ষের উপস্থিতি নিয়েই আরও বেশি স্বচ্ছতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনলাইন পোর্টালে থাকবে পুরো তথ্য
এই ব্যবস্থার জন্য e-Punjab পোর্টালে নতুন attendance module যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্কুল থেকে অনলাইনে উপস্থিতির তথ্য আপলোড করা এবং সংশ্লিষ্ট স্তরে তা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ থাকবে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে কাগজের হাজিরা খাতার উপর নির্ভরতা কমবে এবং উপস্থিতির তথ্য দ্রুত পাওয়া সম্ভব হবে।
কেন এই পরিবর্তন?
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে নিয়ে আসা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রশাসনের আশা, পড়ুয়া অনুপস্থিত হলেই বাড়িতে খবর পৌঁছে গেলে স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমবে।
পশ্চিমবঙ্গেও অবশ্য বিভিন্ন সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল নিজেদের উদ্যোগে ডিজিটাল উপস্থিতি ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। কলকাতার তলতলা হাই স্কুলে পড়ুয়াদের প্রবেশ ও বেরনোর সময় রেকর্ড করতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। সেখানে অভিভাবকদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সন্তানের স্কুলে আসা-যাওয়ার তথ্য জানার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
এমনকি নারায়ণ দাস বাঙুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুলেও পড়ুয়াদের উপস্থিতি নজরদারিতে ফেসিয়াল স্ক্যানিং ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পড়ুয়ার মুখ স্ক্যান হওয়ার পর উপস্থিতির তথ্য অভিভাবকের মোবাইলে থাকা অ্যাপে পৌঁছে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
অভিভাবকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন ধরনের ডিজিটাল উপস্থিতি ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন অভিভাবকরাই। সন্তান স্কুলে না গেলে দ্রুত জানতে পারবেন তাঁরা। ফলে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে অভিভাবকের সঠিক মোবাইল নম্বর স্কুলের রেকর্ডে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল নম্বর পরিবর্তন হলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে তা জানানোও জরুরি।
শুধু হাজিরা নয়, বাড়বে জবাবদিহিও
সরকারি স্কুলে ডিজিটাল উপস্থিতি ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য শুধু পড়ুয়াদের হাজিরা গোনা নয়। উপস্থিতির তথ্যকে প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত অভিভাবক ও প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিয়ে স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক-পড়ুয়া উভয়ের জবাবদিহি এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই বড় লক্ষ্য।
তবে এই ব্যবস্থা কোন রাজ্যে, কোন পর্যায়ে এবং কোন স্কুলগুলিতে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের নির্দেশের উপর নির্ভর করবে। তাই এক রাজ্যে চালু হওয়া নিয়মকে সরাসরি অন্য রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
Keep reading
More in শিক্ষা
শিক্ষা
THE-র ‘রিসার্চ কোয়ালিটি’ সূচকে IISc-কে ছাপাল Galgotias, উঠছে প্রশ্ন
Times Higher Education-এর World University Rankings 2027-এ ‘Research Quality’ সূচকে Galgotias University-এর স্কোর IISc-এর চেয়ে বেশি হয়েছে। G…
শিক্ষা
IIT Bombay ছাত্রের আত্মহত্যা: তদন্ত কমিটি বদলের দাবিতে পড়ুয়াদের মোমবাতি মিছিল
IIT Bombay-এর দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর তদন্তে গঠিত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা। তদন্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে…
শিক্ষা
রাজ্যে ৯৩৩ পড়ুয়াহীন স্কুল! শূন্য পড়ুয়ার স্কুল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়াশূন্য থাকা প্রায় ৯৩৩টি স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জা…
শিক্ষা
8th Pay Commission: বছরে ৪ বার হবে DA বৃদ্ধি? অষ্টম বেতন কমিশনে নতুন কী খবর, জানুন সব আপডেট
অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। বছরে চারবার DA বৃদ্ধির খবর ঘুরলেও এখনও এমন কোনও সরকারি স…
শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে বড় বদল! ২১ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নবান্নের নতুন উদ্যোগ
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক, আধিকারিক ও অশিক্ষক কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনায় অভিন্ন আইনি কাঠামো আনার উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। ‘দ্য…
শিক্ষা
জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! স্কুল সামলে নয়, বদলিও নয়—৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কী নির্দেশ বিকাশ ভবনের?
পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। ৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, প্র…
