জাতীয়

ইজরায়েলে আজ ভোট: নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে কোন ইস্যু?

ইজরায়েলে ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের পর দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ইরানকে মোকাবিলা, অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ এবং হামলার আগে নিরাপত্তার ব্যর্থতার তদন্ত—সব মিলিয়ে ভোটারদের সামনে রয়েছে বড় সিদ্ধান্ত। তবে ভোটের ফল এবং নতুন সরকার গঠনের সমীকরণ এখনও নিশ্চিত নয়।

Share
ইজরায়েলে আজ ভোট: নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে কোন ইস্যু?

ইজরায়েলে আজ ভোট: নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে কোন ইস্যু?

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইজরায়েলের রাজনীতি, নিরাপত্তানীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গভীরভাবে বদলে গিয়েছে। সেই ঘটনার প্রায় তিন বছর পর ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এ সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ইজরায়েলের নাগরিকেরা। এই নির্বাচন শুধু সরকার বদলের লড়াই নয়, বরং দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে একটি বড় পরীক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন, নাকি বিরোধীদের চাপে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যে ছেদ পড়বে, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। নির্বাচনী লড়াইয়ে উঠে এসেছে হামাসের হামলার দায়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক কৌশল, দুর্নীতির মামলা এবং সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রশ্ন।

রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনও পক্ষের জন্যই সরকার গঠনের পথ সহজ নয়। ভোটের ফলের পাশাপাশি বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা শেষ পর্যন্ত ঠিক করতে পারে, ইজরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা চালাবেন।

এক নজরে ইজরায়েল নির্বাচন ২০২৬

  • নির্বাচনের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬।

  • প্রধানমন্ত্রী পদে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী: বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোট।

  • সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে নিরাপত্তার ব্যর্থতার দায় কার?

  • বিদেশনীতি: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান।

  • দেশের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক: অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ।

সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ: কোনও শিবিরই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা।

১৯ বছরের রাজনৈতিক প্রভাব, কিন্তু এবার কি বদল আসছে?

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইজরায়েলের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে তাঁর দীর্ঘ শাসনপর্ব ইজরায়েলের রাজনীতি ও নিরাপত্তানীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

তাঁর সমর্থকদের মতে, নেতানিয়াহুর অভিজ্ঞতা এবং কঠোর নিরাপত্তানীতি ইজরায়েলকে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। বিশেষ করে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতের সময় তিনি নিজেকে দেশের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য আলাদা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা ঠেকানো যায়নি। সেই হামলা ইজরায়েলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এবার ভোটারদের কাছে শুধু সামরিক সাফল্যের দাবি নয়, সেই ব্যর্থতার জবাব দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

নেতানিয়াহুর সামনে তাই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে তাঁকে বোঝাতে হবে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত নেতা। অন্যদিকে, হামাসের হামলার আগে কীভাবে এত বড় নিরাপত্তা ফাঁক তৈরি হয়েছিল, তার জবাবদিহির দাবিও মোকাবিলা করতে হবে।

হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা: নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলাকারীরা দক্ষিণ ইজরায়েলে একাধিক স্থানে হামলা চালায়। এই হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয় বলে প্রকাশিত পরিসংখ্যান জানায়। এর পরেই গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয় এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হয়।

এই ঘটনার পর ইজরায়েলের সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, দেশের অত্যাধুনিক সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থাকা সত্ত্বেও হামাসের পক্ষে এত বড় হামলা চালানো সম্ভব হল কীভাবে?

বিরোধী নেতারা হামলার আগে নিরাপত্তার ব্যর্থতা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, দায় নির্ধারণ না করে শুধু ভবিষ্যতের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলে চলবে না। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা পরবর্তী সামরিক অভিযান এবং শত্রুপক্ষের সক্ষমতা দুর্বল করার প্রচেষ্টাকে তাঁর নেতৃত্বের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: সামরিক অভিযানের ফল এবং হামলার আগে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ব্যর্থতার দায়—দুটি আলাদা প্রশ্ন। একটি ক্ষেত্রে সরকার সামরিক সাফল্যের দাবি করতে পারে, অন্য ক্ষেত্রে তাকে জবাবদিহি করতে হতে পারে।

এই কারণেই এবারের নির্বাচনকে অনেকেই নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের উপর গণভোট হিসেবে দেখছেন। ভোটাররা কি তাঁর নিরাপত্তানীতির উপর আস্থা রাখবেন, নাকি নতুন নেতৃত্বের হাতে তদন্ত ও সংস্কারের দায়িত্ব তুলে দেবেন, সেটিই বড় প্রশ্ন।

ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা: নেতানিয়াহুর প্রধান নির্বাচনী অস্ত্র?

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েলের নিরাপত্তানীতির কেন্দ্রীয় বিষয়। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইজরায়েলের নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।

নেতানিয়াহু নির্বাচনের আগে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার লক্ষ্য এবং ইজরায়েলের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে দুর্বল নেতৃত্ব দেশের অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কিন্তু বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন করলেই কি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে? যুদ্ধের ব্যয়, সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

রয়টার্সের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইজরায়েলের নেতৃত্ব বদল হলেও ইরানকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার নীতিতে বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে। কারণ, এই অবস্থান শুধু নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; ইজরায়েলের বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গেও যুক্ত।

অর্থাৎ, নেতানিয়াহু জিতলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু বিরোধীরা জিতলেও ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ রাতারাতি দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

সেনা নিয়োগে বৈষম্য: কেন এই ইস্যু এত গুরুত্বপূর্ণ?

নির্বাচনের আরেকটি বড় বিতর্ক হল অতি-অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ। এই সম্প্রদায়ের বহু পুরুষ ধর্মীয় শিক্ষায় যুক্ত থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক পরিষেবায় বিশেষ ছাড় পেয়ে এসেছেন। অন্যদিকে, ইজরায়েলের বহু তরুণকে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা পালন করতে হয়।

যুদ্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক মোতায়েনের কারণে এই বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষ বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব যখন বহু পরিবারের উপর পড়ছে, তখন একই নাগরিক সমাজের অন্য অংশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ছাড় কেন থাকবে?

ইজরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, ইহুদি উত্তরদাতাদের ৭২ শতাংশ অতি-অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের পুরুষদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য সামরিক নিয়োগ আইন সমর্থন করেছেন। একই সমীক্ষায় ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

এই পরিসংখ্যান নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝায়। তবে মনে রাখতে হবে, সমীক্ষার ফল গোটা দেশের নির্বাচনী ফলের বিকল্প নয় এবং এটি ভোটারদের প্রত্যেকের মতামতকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত করে না।

সেনা নিয়োগের প্রশ্নটি শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম সামরিক দায়িত্বের বিতর্ক নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সামাজিক ন্যায়, নাগরিকদের সমান অধিকার, সরকারের জোট রাজনীতি এবং সেনাবাহিনীর উপর বাড়তে থাকা চাপ।

নতুন সরকার গঠিত হলে এই আইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। আর সেই সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য জোটের স্থায়িত্বকেও প্রভাবিত করতে পারে।

গাদি আইজেনকোট কি নেতানিয়াহুর বিকল্প হতে পারবেন?

প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট বিরোধী শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর সামরিক অভিজ্ঞতা তাঁকে নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরেছে। নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা মনে করেন, নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে তদন্ত এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের জন্য তিনি একটি বিকল্প পথ দেখাতে পারেন।

তবে আইজেনকোটের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ইজরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দিয়ে সরকার গঠন করা যায় না। বিভিন্ন দলকে একত্র করে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়।

এ ছাড়া, বিরোধী শিবিরের সব দলের মধ্যে ফিলিস্তিন নীতি, ধর্মীয় প্রশ্ন, বিচারব্যবস্থা এবং সামরিক কৌশল নিয়ে সম্পূর্ণ ঐকমত্য নেই। ফলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভোট পড়লেও সেই ভোট একক রাজনৈতিক জোটে রূপান্তরিত হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

জনমত সমীক্ষা কী বলছে? সরকার গঠনেই আসল পরীক্ষা

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোট এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছবি উঠে এসেছে। তবে সব সমীক্ষার ফল এক নয় এবং কোনও পক্ষের জন্যই সরকার গঠনের নিশ্চিত পথ দেখা যাচ্ছে না।

ইজরায়েলের সংসদীয় কাঠামোয় নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সাধারণভাবে সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে কোনও দল বা জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেই যে সরকার গঠন করতে পারবে, এমন নয়।

২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত একটি জনমত সমীক্ষার গড়ে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসনের সমর্থন পেয়েছিল। বিরোধী দলগুলির আসনসংখ্যার হিসাবও সরকার গঠনের প্রশ্নে জটিল সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিসংখ্যান নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নয়; ভোটের আগে প্রকাশিত সমীক্ষার একটি চিত্র মাত্র।

Middle East Forum+1

ফলে তিনটি সম্ভাবনা সামনে রয়েছে:

  • নেতানিয়াহুর জোট প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে ক্ষমতায় ফিরতে পারে।

  • বিরোধী দলগুলি জোট গঠন করে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

  • কোনও পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দীর্ঘ আলোচনা, রাজনৈতিক দর-কষাকষি এবং নতুন নির্বাচনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে কোনও একটি সম্ভাবনাকে নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সাধারণ মানুষের উপর এই নির্বাচনের কী প্রভাব পড়তে পারে?

এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক নেতাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না। এর প্রভাব পড়তে পারে ইজরায়েলের সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও।

নিরাপত্তা ও সামরিক পরিষেবা: নতুন সরকার সেনা নিয়োগের আইন পরিবর্তন করলে বহু পরিবার, তরুণ এবং ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর কর্মীসংকট মোকাবিলার নীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়: দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে সামরিক ব্যয়, ব্যবসার পরিবেশ এবং সরকারি অগ্রাধিকারের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। নতুন সরকারকে নিরাপত্তার প্রয়োজনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থিক উদ্বেগও সামলাতে হবে।

পরিবার ও জিম্মিদের প্রশ্ন: ৭ অক্টোবরের হামলার স্মৃতি এবং জিম্মি সংকটের উত্তরাধিকার ইজরায়েলের রাজনীতিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি এবং সংঘাত মোকাবিলার সিদ্ধান্ত বহু পরিবারের কাছে আবেগগত ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: গাজা ও আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। নতুন সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালনা করবে, সেটিও নজরে থাকবে।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ইজরায়েলের নির্বাচন?

ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র রয়েছে। তাই ইজরায়েলের নেতৃত্বে পরিবর্তন হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রাধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কূটনৈতিক অবস্থানের দিকে ভারতের নজর থাকবে।

তবে সরকার পরিবর্তন হলেই দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক কাঠামো বদলে যাবে, এমন ধারণা করা ঠিক নয়। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের মতো বিষয়গুলি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা। ইজরায়েলের নতুন সরকার গঠিত হলে এই বিষয়গুলির উপর তার নীতি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা থাকবে।

শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?

২৭ অক্টোবরের এই নির্বাচন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাঁর সমর্থকেরা নিরাপত্তা ও সামরিক অভিজ্ঞতাকে সামনে রাখছেন। বিরোধীরা তুলছেন ৭ অক্টোবরের হামলার জবাবদিহি, সেনা নিয়োগে সমতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রশ্ন।

কিন্তু এই নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে শুধু নেতানিয়াহু কতগুলি ভোট পেলেন তার উপর নয়। সংসদে কোন দল কতটি আসন পেল, সম্ভাব্য জোটগুলি কতটা স্থিতিশীল হল এবং সরকার গঠনের জন্য কে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারল—সবই গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই একটাই: ইজরায়েলের ভোটাররা কি নেতানিয়াহুর নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নেতৃত্বের উপর আবারও আস্থা রাখবেন, নাকি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করার সুযোগ দেবেন বিরোধীদের?

ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণার প্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল বা নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।

Enjoyed this story? Share it.

Share

Keep reading

More in জাতীয়

সব দেখুন
গিগ কর্মী ও গৃহস্থালির কাজের হিসাব রাখতে শ্রম সমীক্ষায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা কেন্দ্রের
New

জাতীয়

গিগ কর্মী ও গৃহস্থালির কাজের হিসাব রাখতে শ্রম সমীক্ষায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা কেন্দ্রের

গিগ কর্মীদের কাজ এবং পরিবারের সদস্যদের অবৈতনিক গৃহস্থালির শ্রমের হিসাব আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে বা PLFS-এ পরিবর…

2 min read
তামিলনাড়ুর জেল ভেঙে পালানো ১৭ বন্দির মধ্যে ১৩ জন ধৃত, এখনও অধরা চার
Breaking

জাতীয়

তামিলনাড়ুর জেল ভেঙে পালানো ১৭ বন্দির মধ্যে ১৩ জন ধৃত, এখনও অধরা চার

তামিলনাড়ুর থেনি জেলার থেক্কামপট্টি জেল থেকে পালানো ১৭ জন বিচারাধীন বন্দির মধ্যে ১৩ জনকে ফের আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা অ…

2 min read
ট্রেন থেকে নিখোঁজ জন সুরাজ পার্টির সদস্য, রাঁচির কাছে রেললাইনের ধারে উদ্ধার দেহ
Breaking

জাতীয়

ট্রেন থেকে নিখোঁজ জন সুরাজ পার্টির সদস্য, রাঁচির কাছে রেললাইনের ধারে উদ্ধার দেহ

জন সুরাজ পার্টির ডিজিটাল কমিউনিকেশনস ম্যানেজার দেবপালিক গুপ্তের দেহ ঝাড়খণ্ডের রাঁচির কাছে রেললাইনের ধারের ঝোপ থেকে উদ্ধার হয়েছে। সোমবার রা…

2 min read
জম্মু-কাশ্মীরের ভারতের সঙ্গে সংযুক্তি ঐতিহাসিক, দেশের ঐক্য-অখণ্ডতা নিয়ে আপস নয়: বিজেপি সাংসদ শর্মা
New

জাতীয়

জম্মু-কাশ্মীরের ভারতের সঙ্গে সংযুক্তি ঐতিহাসিক, দেশের ঐক্য-অখণ্ডতা নিয়ে আপস নয়: বিজেপি সাংসদ শর্মা

জম্মু-কাশ্মীরের ভারতের সঙ্গে সংযুক্তিকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরলেন বিজেপি সাংসদ শর্মা। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা কোনওভাবেই আপস…

2 min read
কর্নাটকে অনুমতি বিতর্কের মধ্যেই RSS-এর মিছিল, ‘মুসলিমবিরোধী নই’ দাবি
New

জাতীয়

কর্নাটকে অনুমতি বিতর্কের মধ্যেই RSS-এর মিছিল, ‘মুসলিমবিরোধী নই’ দাবি

কর্নাটকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে রাজ্য সরকার ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই রবিবার, ২৫ অক্টোবর, একাধিক এলাকা…

2 min read
মোদীর প্রশংসায় প্রয়াত স্বামী চিন্ময়ানন্দের AI অবতার, ঘিরে চর্চা দেশজুড়ে

জাতীয়

মোদীর প্রশংসায় প্রয়াত স্বামী চিন্ময়ানন্দের AI অবতার, ঘিরে চর্চা দেশজুড়ে

নয়াদিল্লিতে চিন্ময় মিশনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলনে প্রয়াত স্বামী চিন্ময়ানন্দ সরস্বতীর AI-চালিত…

2 min read