'কী হত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের দায়িত্ব যদি ৮০ বিধায়কের উপরই ছেড়ে দিতেন?', বিস্ফোরক পার্থ
তৃণমূলের অন্দরে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে চলা বিতর্কে এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, দলের ৮০ জন বিধায়কের উপর যদি বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হত, তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত। প্রসঙ্গটি সেই বিতর্ক, যার জেরে তৃণমূলের বিধায়কদের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
লিখেছেন
Priya Jana

তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা বিতর্কে এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের বিরোধ নতুন মাত্রা পেল। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে চলা টানাপোড়েনের প্রসঙ্গেই এবার মন্তব্য করলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, “কী হত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের দায়িত্ব যদি ৮০ বিধায়কের উপরই ছেড়ে দিতেন?” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে তৃণমূল পরিষদীয় দলের অন্দরের সেই সংঘাত।
৮০ বিধায়ককে ঘিরেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৮০টি আসনে জয় পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসে। এরপর বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নিয়ে দলের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
তৃণমূলের তরফে প্রথমে বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসে। তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল। পরে সেই প্রস্তাবে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এরপরই সামনে আসে ঋতব্রত শিবির
পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে দলের বিধায়কদের একাংশ প্রকাশ্যে অবস্থান নেন।
৩ জুনের ঘটনায় ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৫৮ জন ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই সমর্থনের ভিত্তিতে স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং বিধানসভায় তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ঘরও খুলে দেওয়া হয়।
পার্থের মন্তব্যে কোন প্রসঙ্গ উঠে এল?
এই গোটা ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যটি সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হল—বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়টি যদি সরাসরি ৮০ জন বিধায়কের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেওয়া হত, তাহলে কী পরিস্থিতি তৈরি হত?
তবে পার্থের এই মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা উচিত। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে বিধানসভার নিয়ম, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং স্পিকারের ভূমিকা—এই তিনটি বিষয় নিয়েই ইতিমধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
হাই কোর্টেও পৌঁছেছে বিরোধী দলনেতা বিতর্ক
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্পিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
শুনানিতে শোভনদেবের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও বিধানসভাগত প্রক্রিয়া রয়েছে। বিরোধী দলের বিধায়করা নিজেদের মধ্যে ভোট বা স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরাসরি কাউকে ওই পদে বসাতে পারেন কি না, সেটিও আদালতে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কার সঙ্গে?
এই প্রশ্নটিই গোটা বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে চাওয়ার প্রস্তাব ছিল। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির দাবি করে, দলের বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তাঁদের সঙ্গে রয়েছে।
ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই তাঁদের তরফে স্পিকারের কাছে আবেদন জানানো হয়।
স্বাক্ষর বিতর্কও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়
বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে সংঘাতের পাশাপাশি শোভনদেবকে ওই পদে বসানোর প্রস্তাবে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে অভিযোগ ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা দাবি করেছিলেন, তাঁদের নাম বা স্বাক্ষর ওই প্রস্তাবে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর হয় এবং বিষয়টি নিয়ে সিআইডি তদন্তও শুরু করে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পার্থের মন্তব্যে ফের পুরনো বিতর্ক সামনে
ফলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে ফের সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে—বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কে এবং কোন প্রক্রিয়ায়?
এই মুহূর্তে বিষয়টি শুধু তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। শোভনদেবের মামলা এবং বিধানসভায় স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এক নজরে
বিষয়তথ্য২০২৬ নির্বাচনে তৃণমূলের আসন৮০প্রথমে যাঁর নাম সামনে আসেশোভনদেব চট্টোপাধ্যায়পরে যাঁকে বিদ্রোহী শিবির সমর্থন করেঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ঋতব্রতকে সমর্থনের দাবি৫৮ বিধায়কবিতর্কের অন্যতম বিষয়বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াআইনি লড়াইকলকাতা হাই কোর্টে মামলাসাম্প্রতিক মন্তব্যপার্থ চট্টোপাধ্যায়
অর্থাৎ, ৮০ বিধায়ককে ঘিরে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের যে বিরোধী দলনেতা বিতর্ক শুরু হয়েছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যে সেই পুরনো অধ্যায়ই ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
Keep reading
More in জাতীয়

জাতীয়
নানা পাটেকরের শেষ কয়েক ঘণ্টা: হার্ট অ্যাটাক নাকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট? কেন প্রতিটি মিনিট এত গুরুত্বপূর্ণ
প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর ৮ অক্টোবর ২০২৬ সকালে গোয়ায় ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত…
জাতীয়
‘You saved everyone’: Smit Machchhar-এর সাহসে মুগ্ধ PM Modi, বললেন—‘ভারতীয় পাইলটদের সম্মানও রক্ষা করেছেন’
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ হামলার পর পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ফোন করে তাঁর সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংস…
জাতীয়
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্যানেলের প্রস্তাব খারিজ, CJI সূর্য কান্ত ও অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে হবে না বৈঠক
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ সংক্রান্ত বিল পরীক্ষা করা যৌথ সংসদীয় কমিটির সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বর্তমান বি…
জাতীয়
মুম্বইয়ে অভিজিৎ দিপকেকে আটক করার খবর অস্বীকার CJP-র, Gyanesh Kumar-কে নিশানা
মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে Cockroach Janta Party (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে পুলিশ আটক করেছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে দলটি। CJP-র…
জাতীয়
‘দেশের ভবিষ্যৎ মানুষই ঠিক করবেন’, জন্তর মন্তর বিক্ষোভের আগে বললেন AISA-র নেত্রী নেহা বোরাই
জন্তর মন্তরে ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে All India Students' Association (AISA)-এর জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম…
জাতীয়
জন্তর মন্তর বিক্ষোভে অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ, বাড়ানো হল নিরাপত্তা
জন্তর মন্তরে ২ অক্টোবর প্রস্তাবিত বিক্ষোভের জন্য কোনও সংগঠনকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। Special Intensive Revision (SIR)…
