পুতিন কি ইউরোপে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? CIA প্রধানের সতর্কবার্তা
ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া ও NATO-র মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। CIA প্রধান জন র্যাটক্লিফের সাম্প্রতিক মস্কো সফর এবং রাশিয়াকে NATO-ভুক্ত দেশে হামলা না করার সতর্কবার্তা সেই আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে রাশিয়া NATO-র প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে পারে বলে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। তবে ইউরোপে রাশিয়ার সরাসরি সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
লিখেছেন
Priya Jana
পুতিন কি ইউরোপে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন? CIA প্রধানের সতর্কবার্তা ঘিরে বাড়ছে NATO সংঘাতের আশঙ্কা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাঁচ বছর পেরিয়েও সংঘাতের অবসানের কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। এর মধ্যেই রাশিয়া ও NATO-র মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে CIA প্রধান জন র্যাটক্লিফের গোপনীয় মস্কো সফর এবং রাশিয়াকে NATO-ভুক্ত দেশে হামলা না করার সতর্কবার্তা ঘিরে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
মস্কোয় গোপন বৈঠকে CIA প্রধান
২৫ আগস্ট মস্কো সফর করেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA-র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। এটি ছিল CIA প্রধান হিসেবে তাঁর প্রথম পরিচিত রাশিয়া সফর। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি তাঁর কোনও বৈঠক হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, র্যাটক্লিফ রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং পরে সেই আলোচনার ফলাফল পুতিনকে জানানো হয়।
র্যাটক্লিফের সফরের উদ্দেশ্য প্রথমে স্পষ্ট করা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সফরটিকে ‘সেমি-রুটিন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সূত্র দাবি করেছে, রাশিয়াকে NATO-ভুক্ত দেশগুলির বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ না করার বিষয়ে সতর্ক করাই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল।
‘জাস্ট ডোন্ট ডু ইট’—কী বার্তা দিয়েছিল আমেরিকা?
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, র্যাটক্লিফ মস্কোয় রাশিয়ার কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন—ইউক্রেনের যুদ্ধকে NATO-র সদস্য দেশগুলির দিকে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। কিছু প্রতিবেদনে এই বার্তাকে ‘Just don't do it’ অর্থাৎ ‘এটা একেবারেই করবেন না’ ধরনের কঠোর সতর্কতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নির্দিষ্ট বাক্যটি CIA বা মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটিকে সরাসরি সরকারি বিবৃতি হিসেবে দেখার পরিবর্তে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সূত্রভিত্তিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
কেন NATO নিয়ে এত উদ্বেগ?
মার্কিন গোয়েন্দা মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি রাশিয়ার প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে না থাকলে মস্কো NATO-র প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে সীমিত কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে। সম্ভাব্য পরিস্থিতির মধ্যে সাইবার হামলা, নাশকতা, ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটনা কিংবা NATO-র পূর্ব সীমান্তে সীমিত সামরিক উসকানির কথা আলোচনায় এসেছে।
বিশেষ করে বাল্টিক অঞ্চলকে নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া NATO-র সদস্য এবং রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই দেশগুলির বিরুদ্ধে কোনও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হলে NATO-র সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত বড় সংঘাতে পরিণত হতে পারে।
ড্রোন হামলা কি নতুন বিপদের ইঙ্গিত?
ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ড্রোন ও নাশকতার অভিযোগও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সন্দেহজনক ড্রোন কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য রুশ-সমর্থিত নাশকতা নিয়ে তদন্ত হয়েছে। পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ধরনের ‘গ্রে-জোন’ বা হাইব্রিড কর্মকাণ্ড সরাসরি যুদ্ধ শুরু না করেও NATO দেশগুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষা করতে পারে।
তবে কোনও নির্দিষ্ট ড্রোন ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করার ক্ষেত্রে প্রমাণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব ঘটনাকেই রুশ সামরিক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।
পুতিন কি সত্যিই ইউরোপে হামলা করবেন?
এই মুহূর্তে রাশিয়া ইউরোপের কোনও NATO সদস্য দেশে পূর্ণাঙ্গ সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন কোনও প্রকাশ্য এবং নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বরং বর্তমান উদ্বেগের বড় অংশই মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন, নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা এবং ইউরোপে চলমান হাইব্রিড হুমকির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ক্রেমলিনও জানিয়েছে, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও চলতে পারে। তবে রাশিয়া-মার্কিন সম্পর্কের সামগ্রিক সংকট কাটছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন।
ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী?
র্যাটক্লিফের মস্কো সফর এমন এক সময়ে হয়েছে যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা এবং রাশিয়ার ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফলে এখন নজর মূলত তিনটি বিষয়ে—রাশিয়া ইউক্রেনের বাইরে সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না, NATO কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং আমেরিকা-মস্কোর গোপন গোয়েন্দা যোগাযোগ যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কতটা কার্যকর হয়।
এই মুহূর্তে ‘পুতিন ইউরোপে হামলা করতে চলেছেন’—এমন নিশ্চিত দাবি করার মতো তথ্য নেই। তবে NATO-র পূর্ব সীমান্তে সম্ভাব্য রুশ উসকানি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলের উদ্বেগ যে বেড়েছে, র্যাটক্লিফের মস্কো সফর সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করেছে।
Keep reading
More in আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক
Gypsy Rose Blanchard-এর ভাই Dylan কে? Ken Urker-এর পর কেন আলোচনায় পরিবার
Gypsy Rose Blanchard-এর সৎভাই Dylan Blanchard সাধারণত প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু Gypsy-র প্রাক্তন বাগদত্তা ও তাঁর মেয়ের বাবা Ken U…
আন্তর্জাতিক
ফ্লাইদুবাইয়ের ‘ক্র্যাশ-চেষ্টা’র পর মনে পড়ছে আরও ৪ ভয়াবহ ককপিট ঘটনা
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেনকে ছুরি দিয়ে হামলা এবং বিমানটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার অভিযোগের পর ফের আলোচনায় ককপি…
আন্তর্জাতিক
ফ্লাইদুবাইয়ের ‘ক্র্যাশ-চেষ্টা’য় ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে কি কুঠার দিয়ে মারা হয়েছিল? কী বললেন নেটানিয়াহু
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে কীভাবে হামলা করা হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী…
আন্তর্জাতিক
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলা বনাম ফ্লাভিও, সর্বশেষ জনমত সমীক্ষায় কী বলছে?
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের আগে নতুন একাধিক জনমত সমীক্ষায় প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও ফ্লাভিও বলসোনারো-র মধ…
আন্তর্জাতিক
অক্টোবরের US Visa Bulletin প্রকাশ, ভারতীয় Green Card আবেদনকারীদের জন্য কী বদলাল?
October 2026 Visa Bulletin প্রকাশের সঙ্গে নতুন মার্কিন অর্থবর্ষ শুরু হয়েছে। ভারতীয় employment-based Green Card আবেদনকারীদের জন্য EB-1-এ কিছু…
আন্তর্জাতিক
‘ইন্টারনেটের থেকেও বড়’, AI-এর নাম বদলে ‘Superintelligence’ করার প্রস্তাবে ফের জোর ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘Artificial Intelligence’ না বলে ‘Superintelligence’ নামে অভিহিত করার প্রস্তাব…
