রাজনীতি

UP Election 2027: কেন সমাজবাদী পার্টিকে দ্রুত আসন সমঝোতায় চাপ দিচ্ছে কংগ্রেস?

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই জোরদার করেছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। দুই দলই বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের সম্ভাবনা ধরে এগোতে চাইছে। তবে আসন বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই নির্বাচনের অনেক আগেই আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু করে প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে চাইছে কংগ্রেস। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে দেরিতে আসন সমঝোতার অভিজ্ঞতাও কংগ্রেসের এই তৎপরতার অন্যতম কারণ বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

Share
UP Election 2027: কেন সমাজবাদী পার্টিকে দ্রুত আসন সমঝোতায় চাপ দিচ্ছে কংগ্রেস?

UP Election 2027: কেন সমাজবাদী পার্টিকে দ্রুত আসন সমঝোতায় চাপ দিচ্ছে কংগ্রেস?

উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখনও কয়েক মাস দূরে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই গতি পেয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস নিজেদের নির্বাচনী কৌশল সাজাতে শুরু করেছে। আর এই পর্যায়ে কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে নেওয়া।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে একসঙ্গে লড়াই করেছিল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। সেই সমঝোতায় বিরোধী শিবিরের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাজে লাগাতে চাইছে দুই দল। তবে বিধানসভা নির্বাচনে ৪০৩টি আসন থাকায় আসন বণ্টনের সমীকরণ লোকসভা ভোটের তুলনায় অনেক বেশি জটিল।

কেন এত তাড়াতাড়ি আসন ভাগাভাগি চাইছে কংগ্রেস?

কংগ্রেসের তৎপরতার পিছনে প্রথম কারণ হল নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখা। একটি আসন চূড়ান্ত করার সঙ্গে শুধু প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি জড়িত নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংগঠন তৈরি, স্থানীয় নেতৃত্বকে সক্রিয় করা, সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রচার এবং বুথ স্তরে প্রস্তুতি—সবকিছুর জন্য সময় প্রয়োজন।

এই কারণেই কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশের সম্ভাব্য আসনগুলির তালিকা তৈরি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

বিহারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

কংগ্রেসের দ্রুত আসন সমঝোতার অন্যতম কারণ হিসেবে ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকেও দেখা হচ্ছে। সেই নির্বাচনে INDIA ব্লকের শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে দেরি এবং কয়েকটি আসনে পারস্পরিক লড়াই বিরোধী জোটকে সমস্যায় ফেলেছিল বলে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে মূল্যায়ন রয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি আটকাতেই আগেভাগে আলোচনা শুরু করার পক্ষপাতী কংগ্রেস। দলের লক্ষ্য, শেষ মুহূর্তে আসন নিয়ে টানাপড়েনের বদলে আগে থেকেই একটি কার্যকর নির্বাচনী সমঝোতা তৈরি করা।

কত আসন চাইতে পারে কংগ্রেস?

আসন বণ্টনই দুই শরিকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, কংগ্রেস প্রায় ৮০টি আসনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে আলোচনায় কংগ্রেসের দাবি আরও বেশি, প্রায় ১২০টি আসন পর্যন্ত হতে পারে বলেও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

সমাজবাদী পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিতে অবশ্য কংগ্রেসকে তুলনামূলকভাবে কম আসন দেওয়ার একটি সম্ভাব্য ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, SP প্রায় ৬০ থেকে ৮০টি আসন কংগ্রেসকে দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে কোনও চূড়ান্ত আসন সমঝোতা এখনও ঘোষণা হয়নি।

সমাজবাদী পার্টিরও কেন হিসাব কঠিন?

উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি বর্তমানে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। ফলে নিজেদের শক্তিশালী আসনগুলি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দলের স্থানীয় নেতৃত্বের আপত্তি থাকতে পারে।

অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি শুধুমাত্র আসনের সংখ্যা নিয়ে নয়। দলটি যে আসনগুলিতে বাস্তবসম্মতভাবে লড়াই করতে পারবে এবং যেখানে সংগঠন বা সম্ভাব্য প্রার্থী তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, সেগুলিকে গুরুত্ব দিতে চাইছে। ফলে কোন দল কতগুলি আসন পাবে—তার পাশাপাশি কোন কোন আসন ভাগাভাগি হবে, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় নেতৃত্বের আপত্তি বড় বাধা হতে পারে

কংগ্রেস এবং SP-এর শীর্ষ নেতৃত্ব জোটের পক্ষে থাকলেও দুই দলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতাদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ কোনও আসন জোটের শরিককে ছেড়ে দিলে সংশ্লিষ্ট দলের স্থানীয় নেতাদের অনেকেই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন।

এই কারণেই কংগ্রেস চাইছে আলোচনা যত দ্রুত শুরু হবে, তত দ্রুত সম্ভাব্য আসন ও প্রার্থী নিয়ে সংগঠনকে প্রস্তুত করা যাবে। SP-এর দিক থেকেও বিভিন্ন জেলা ও আসন নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪-এর লোকসভা সাফল্য কি ২০২৭-এও কাজে আসবে?

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে SP-কংগ্রেস জোট বিজেপির বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ফল করেছিল। সেই সাফল্যই দুই দলকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একসঙ্গে থাকার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে উৎসাহিত করছে।

তবে বিধানসভা ভোটের বাস্তবতা আলাদা। লোকসভা নির্বাচনের ভোটের প্রবণতা সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনে একইভাবে প্রতিফলিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। স্থানীয় প্রার্থী, জাতিগত সমীকরণ, সংগঠনের শক্তি এবং আঞ্চলিক ইস্যু—সবকিছুই ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

কংগ্রেসের সামনে আরেকটি লক্ষ্য—সংগঠন পুনর্গঠন

আসন সমঝোতা কংগ্রেসের কাছে শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে জোট গঠনের বিষয় নয়। উত্তরপ্রদেশে দলের নিজস্ব সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করাও একটি বড় লক্ষ্য।

যে আসনগুলিতে কংগ্রেস লড়াই করতে চায়, সেগুলি আগেভাগে চিহ্নিত করতে পারলে দল স্থানীয় স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য বেশি সময় পাবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও দীর্ঘ সময় ধরে জনসংযোগ ও প্রচারের সুযোগ তৈরি হবে।

কংগ্রেসের নতুন উত্তরপ্রদেশ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতমও আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে সমতার কথা বলেছেন। যদিও ২০২৬ সালের জুনের শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল।

সামনে মূল লড়াই—আসন সংখ্যা নাকি ‘জেতার মতো’ আসন?

২০২৭ সালের UP Election-এ SP-কংগ্রেস জোট হলে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে আসন বণ্টনের ফর্মুলা। সংখ্যার দিক থেকে কে কতটি আসন পাবে, তার পাশাপাশি কোন দল কোন আসনে লড়বে—এই সিদ্ধান্তই জোটের কার্যকারিতা নির্ধারণ করতে পারে।

কংগ্রেস দ্রুত আলোচনায় বসে নিজেদের সম্ভাব্য আসনগুলির দাবি স্পষ্ট করতে চাইছে। অন্যদিকে SP-কে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি এবং সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থীদের হিসাব করতে হবে। ফলে আলোচনার টেবিলে শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, আসনভিত্তিক নির্বাচনী তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিজেপিকে ঠেকাতে সময়ের আগেই প্রস্তুতি

উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন NDA-ও নিজেদের শরিকদের সঙ্গে আসন সমন্বয়ের কাজ শুরু করেছে। ফলে বিরোধী শিবিরের কাছে সময় নষ্ট না করে নিজেদের সমীকরণ স্পষ্ট করার চাপ বাড়ছে। জুলাইয়ে বিজেপি সভাপতি নীতিন নাবিনের সঙ্গে NDA শরিকদের বৈঠকেও আসন সংক্রান্ত বিষয় উঠে আসে।

সব মিলিয়ে কংগ্রেসের দ্রুত আসন সমঝোতার উদ্যোগকে শুধু আসন পাওয়ার দাবি হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো রাজনৈতিক তাৎপর্য ধরা পড়ে না। এর পিছনে রয়েছে প্রার্থী বাছাই, সংগঠন তৈরি, নির্বাচনী প্রচার এবং জোটের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এড়িয়ে সময়মতো মাঠে নামার কৌশল।

তবে শেষ পর্যন্ত SP ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে দুই দলের নেতৃত্ব কতটা নমনীয়ভাবে নিজেদের দাবি সামঞ্জস্য করতে পারে তার উপর। ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের লড়াইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে এই আসন ভাগাভাগির সমীকরণ।

Enjoyed this story? Share it.

Share

Keep reading

More in রাজনীতি

সব দেখুন
স্টোল থেকে একই মঞ্চে: রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়েও মমতা-সোনিয়ার সম্পর্ক

রাজনীতি

স্টোল থেকে একই মঞ্চে: রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়েও মমতা-সোনিয়ার সম্পর্ক

দিল্লিতে INDIA ব্লকের সাম্প্রতিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর উষ্ণ মুহূর্ত ফের নজর কেড়েছে। মমতা সোনিয়াকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা…

2 min read
Gyanesh Kumar ও SIR ইস্যুতে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দেবে NCP-SP ও কংগ্রেস

রাজনীতি

Gyanesh Kumar ও SIR ইস্যুতে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দেবে NCP-SP ও কংগ্রেস

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR)-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত…

2 min read
কর্ণাটকে SIR নিয়ে নতুন বিতর্ক, Form 7-এ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য চাইলেন শিবকুমার

রাজনীতি

কর্ণাটকে SIR নিয়ে নতুন বিতর্ক, Form 7-এ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য চাইলেন শিবকুমার

কর্ণাটকে চলা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার Form 7-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবে…

3 min read
‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ কটাক্ষ রামদাস আঠাওয়ালের, CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিতর্ক

রাজনীতি

‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ কটাক্ষ রামদাস আঠাওয়ালের, CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিতর্ক

CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে CJP-কে ‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী…

2 min read
SIR বিতর্কে কংগ্রেসের ৫ দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও CEC-এর পদত্যাগ চাইল দল

রাজনীতি

SIR বিতর্কে কংগ্রেসের ৫ দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও CEC-এর পদত্যাগ চাইল দল

নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একাধিক দাবি তুলেছে। দলের পক্ষ থেক…

3 min read
রেভন্থ রেড্ডির ‘ধনী-গরিবের ঈশ্বর’ মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ BJP-র

রাজনীতি

রেভন্থ রেড্ডির ‘ধনী-গরিবের ঈশ্বর’ মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ BJP-র

তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্থ রেড্ডি ভগবান রামকে ‘ধনীদের ঈশ্বর’ এবং ভগবান শিবকে ‘গরিবদের ঈশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হ…

2 min read