চীনা পণ্যে ৭.৫% শুল্ক বসাতে পারে আমেরিকা, ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকের আগে চীনা পণ্যের উপর অতিরিক্ত ৭.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা ও কম দামে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা পণ্য ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপের ভাবনা। গাড়ি, ইস্পাত, সৌর প্যানেলসহ একাধিক শিল্পে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
লিখেছেন
Priya Jana
চীনা পণ্যে ৭.৫% শুল্কের ভাবনা আমেরিকার, ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে কোন কোন শিল্পে পড়বে বড় প্রভাব?
ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা ফের বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চীনা পণ্যের উপর অতিরিক্ত ৭.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। প্রস্তাবিত এই শুল্কের মূল লক্ষ্য চীনের ‘অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা’ এবং কম দামে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রফতানির অভিযোগ।
এই সম্ভাব্য পদক্ষেপটি এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন আগামী মাসে ট্রাম্প ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে একদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে বাণিজ্যিক চাপ বাড়ানো—দুই কৌশলই একসঙ্গে চালাতে চাইছে ওয়াশিংটন বলে মনে করা হচ্ছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে অবশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রস্তাবটি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কেন নতুন করে শুল্কের ভাবনা?
মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে চীনের শিল্প উৎপাদনের বিপুল ক্ষমতা। আমেরিকার অভিযোগ, চীনে উৎপাদিত কিছু পণ্য দেশীয় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে তৈরি হচ্ছে এবং কম দামে আন্তর্জাতিক বাজারে সেই পণ্য রফতানি করা হচ্ছে। এর ফলে মার্কিন ও অন্যান্য দেশের উৎপাদকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে ওয়াশিংটনের যুক্তি।
Associated Press-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন শুল্ককে এমনভাবে কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে যাতে একদিকে চীনা পণ্যের উপর চাপ বাড়ে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বর্তমান বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সম্ভাব্য বৈঠক সরাসরি বিপন্ন না হয়।
কোন কোন শিল্পে পড়তে পারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা?
ইলেকট্রিক গাড়ি ও অটোমোবাইল শিল্প:
চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন ও ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের নজরে। তুলনামূলক কম দামে উৎপাদন এবং বড় আকারের উৎপাদন ক্ষমতার কারণে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলির উদ্বেগ রয়েছে। নতুন শুল্ক কার্যকর হলে চীনা অটোমোবাইল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের মার্কিন বাজারে প্রবেশের খরচ বাড়তে পারে।
ইস্পাত ও ধাতু শিল্প:
চীনের বিপুল ইস্পাত উৎপাদনও মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগের অন্যতম বিষয়। অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে চীনা স্টিল ও ধাতব পণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক মার্কিন বাজারে চীনা সরবরাহকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে।
সৌর প্যানেল ও ক্লিন এনার্জি পণ্য:
সৌর প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ক্ষেত্রেও চীনের উৎপাদন ক্ষমতা অত্যন্ত বড়। নতুন শুল্ক আরোপ হলে মার্কিন আমদানিকারকদের খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সরঞ্জামের দামেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য:
চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন নিয়ে আলোচনায় শুধু গাড়ি, স্টিল বা সৌর প্যানেল নয়, আরও বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যও রয়েছে। ফলে শুল্কের আওতা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, সেটিই হবে আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
শুল্ক বাড়লে আমেরিকার বাজারেও কি দাম বাড়বে?
চীনা পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানো হলে তার পুরো বোঝা যে শুধু চীনা রফতানিকারকদের উপর পড়বে, তা নয়। আমেরিকার আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদেরও বাড়তি শুল্ক দিতে হবে। সেই অতিরিক্ত খরচের একটি অংশ পণ্যের খুচরো দামে যুক্ত হলে মার্কিন ক্রেতাদের উপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি হল, দীর্ঘমেয়াদে চীনা সস্তা আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া গেলে আমেরিকার শিল্পক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হতে পারে।
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই সম্ভাব্য ৭.৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ওয়াশিংটন চিনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে বাণিজ্য নীতির মাধ্যমে বেজিংয়ের উপর চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চীন অবশ্য অতিরিক্ত উৎপাদনের অভিযোগকে একতরফা মার্কিন চাপ হিসেবে দেখছে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধে নতুন অধ্যায়?
নতুন ৭.৫ শতাংশ শুল্ক শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এই প্রস্তাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
আগামী দিনে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে শুল্ক, শিল্প উৎপাদন, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বাণিজ্য ভারসাম্য বড় আলোচ্য বিষয় হতে পারে। বৈঠকের আগে এই সম্ভাব্য শুল্ক তাই শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মার্কিন-চিন কূটনৈতিক দরকষাকষিরও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
নোট: ৭.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের খবরটি এখনও প্রস্তাব বা বিবেচনাধীন পদক্ষেপ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; এটি চূড়ান্ত মার্কিন নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
Keep reading
More in আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক
জি২০ বৈঠকে যোগ দিতে আটলান্টায় যাচ্ছেন এস. জয়শঙ্কর, কোয়াড বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকেও অংশ নেবেন
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ৩০ ও ৩১ অক্টোবর ২০২৬ আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি২০ বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন। সফরকালে কোয়াডের বিদে…

আন্তর্জাতিক
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ২২ ভারতীয়ের মৃত্যু, সংসদীয় বিবৃতিতে জানাল বিদেশ মন্ত্রক
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ২২ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয…

আন্তর্জাতিক
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ভারতীয়ের মৃত্যু, ১৪ জনই নাবিক: বিদেশ মন্ত্রক
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতে ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ২২ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মৃতদের ম…

আন্তর্জাতিক
পাহেলগাঁও জঙ্গি হামলার নিন্দা ব্রিকস পার্লামেন্টারি ফোরামের, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবি
১২তম ব্রিকস পার্লামেন্টারি ফোরামের যৌথ ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করা…
আন্তর্জাতিক
রাশিয়া ও ভারতের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওম বিড়লার বৈঠক, শুরু BRICS ফোরাম
দ্বাদশ BRICS সংসদীয় ফোরামের আগে নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বৈঠকে দ…
আন্তর্জাতিক
প্রিয় বন্ধু লুলাকে জয়ের শুভেচ্ছা মোদীর, ভারত-ব্রাজিল সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে লুলাকে…
